আমার ক্যাম্পাস, আমার গল্প―রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অদেখা রূপ




বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে আড্ডা দেওয়া, প্রিয় বইটা হাতে নিয়ে লাইব্রেরিতে বসে কাটানো, অথবা তালগাছতলায় বসে মন দিয়ে পড়াশোনা―এই সব ছিল আমার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দিনগুলোর ছবি। আজ চার বছর কেটে গেলেও এই সব ছবি চোখের সামনে ভাসে। রাজশ্বিতে আমার এই চার বছর অভিজ্ঞতা এক অপূর্ব সময়ের কথা, যা আমি কখনোই ভুলতে পারব না।
ক্যাম্পাসে আমার প্রথম দিনটি ছিল উত্তেজনাদায়ক। বিরাট এক বিশ্ববিদ্যালয়, নতুন মুখ আর অজানা পরিবেশ―সব মিলিয়ে একটা আলাদা রকম অনুভূতি। লাজুক আমিও সবার সঙ্গে মিশতে চেষ্টা শুরু করলাম। প্রথম সপ্তাহগুলো কেটে গেল নতুন বন্ধু খুঁজে, ক্লাসারুমে ইয়ার্কি করতে করতে আর কখন যে বিকেল হয়ে গেল তা বুঝতেই পারিনি। বিকেল গড়িয়ে রাত, আর রাত গড়িয়ে সকাল―এই তো ছিল আমার প্রথম ক্যাম্পাস লাইফ।
প্রথম সেমিস্টারের ফাইনাল পরীক্ষা দিয়েই ছুটি। আমাদের প্রথম বছরের স্টুডেন্টদের একটা গ্রূপ ক্যাম্পাসে ঘুরে দেখা শুরু করলাম। মূল ক্যাম্পাসের পাশেই বটতলার এক কোণে একটা লেক আছে, "রাজনগর লেক"। ওই লেকের পাড়ে একটু বসে জলের দিকে তাকিয়ে থাকলেই ক্লান্তি আর উদ্বেগ সব উধাও হয়ে যেত। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে আমরা কয়েকটা বন্ধু এখানে বসে কবিতা পাঠ, গান গাওয়া আর এমনিই আড্ডা দিয়ে কাটিয়ে দিতাম। কখনো আড্ডা আর কখনো লেকের ধারে বসে শুধু জলের দিকে তাকিয়ে থাকতাম। এমন একদিন হঠাৎই দেখলাম পাখিদের এক দল লেকের ওপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছে। পাখিগুলোর পিছনে রোদের আলোটা লেকের জলে ছায়া ফেলে একটা অপূর্ব দৃশ্যের সৃষ্টি করছিল। লেকের ধারে বসে সেই দৃশ্য দেখতে দেখতে মনে হল, যেন স্বপ্নের দেশে চলে এসেছি।
এরপর তো পুরো চার বছরটা কেটে গেল কত গল্প আর কত মজার মুহূর্তের সাথে। শুধু পড়াশোনাই করিনি, কত কিছুই না শিখেছি, কত কিছুই না পেয়েছি। এখানে এসেই বুঝতে পেরেছিলাম, শুধুই বই, কলম আর টেস্ট-পরীক্ষা নয়, এর বাইরেও জীবনের কত কিছু আছে। এই ক্যাম্পাস থেকেই পেয়েছি সারা জীবনের সেরা বন্ধু, শিখেছি কীভাবে একটা দলে কাজ করতে হয়, আর কীভাবে প্রত্যেকটা চ্যালেঞ্জকে নিতে হয়।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, তুমি শুধুমাত্র একটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নও। তুমি একটা সংস্কৃতি, একটা জীবনধারা। তোমার এই ক্যাম্পাসের সবুজ ঘাস আর বটগাছের ছায়া আমাকে সবসময়ই অনুপ্রাণিত করেছে। তুমি আমাকে শিখিয়েছো, জীবনটা কতটা সুন্দর হতে পারে। তুমি আমাকে শিখিয়েছো, স্বপ্ন দেখতে হয় এবং সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য সর্বদা চেষ্টা করে যেতে হয়।
আজ, যখন আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিদায় নিচ্ছি, তখন আমার মনে পড়ছে এই চার বছরের যাত্রাপথের সব অভিজ্ঞতা। এই বিশাল ক্যাম্পাসের প্রতিটি রাস্তায়, প্রতিটি গাছে, প্রতিটি ভবনে রয়ে গেছে আমার অসংখ্য স্মৃতি। এই সব স্মৃতি আমার মনের মধ্যে সব সময়ই জীবন্ত থাকবে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, তোমাকে কখনোই ভুলতে পারব না। তুমি আমার ক্যাম্পাস, আমার গল্প―আমার জীবনের অন্যতম সেরা অধ্যায়।